ইরানের নৌশাখা প্রধান আলিরেজা তাংসিরি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে প্রভাবের আশঙ্কা
ইরানের নৌশাখা প্রধান তাংসিরি ইসরায়েলি হামলায় নিহত

ইরানের নৌশাখা প্রধান আলিরেজা তাংসিরি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌশাখার প্রধান আলিরেজা তাংসিরি বৃহস্পতিবার সকালে এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে মাসব্যাপী চলমান এই অভিযানে তাংসিরি হলেন ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া সর্বশেষ শীর্ষ ইরানি সামরিক ব্যক্তিত্ব। তার মৃত্যুতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের কৌশলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রভাব

কমান্ডার তাংসিরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার সফল অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তার এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে তেল বাণিজ্যে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধে ইসরায়েলের সহযোগী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এই অভিযানের ব্যয়ভার বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান জানিয়েছিল, তারা এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে শত্রুপক্ষ ছাড়া সব দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। তবে তাংসিরির মৃত্যুর ফলে এই নীতি পরিবর্তন হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

ড্রোন ও মিসাইল পরীক্ষায় তাংসিরির ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তথ্যমতে, তাংসিরি ইরানি নৌবাহিনীর ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষার তদারকি করতেন। তিনি একটি ড্রোন উৎপাদন ও পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। মূলত আক্রমণাত্মক ড্রোনের ব্যবহারের মাধ্যমেই ইরান এই প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। এই কর্মকাণ্ডের কারণে ২০১৯ এবং ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বেশ সক্রিয় ছিলেন তাংসিরি। তিনি নিয়মিতভাবে কোন কোন জাহাজকে ইরান প্রণালি পার হতে দেয়নি তার আপডেট দিতেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট তেল স্থাপনায় হামলা এবং ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলা না চালাতে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিতেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিয়োগ ও আগ্রাসী বক্তব্য

২০১৮ সালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাকে নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য বজায় রাখতে নিজের আগ্রাসী বক্তব্যের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ খামেনি নিজেও যুদ্ধের শুরুতে একটি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন, যা ইরানের সামরিক নেতৃত্বে আরও সংকট তৈরি করেছে। তাংসিরির মৃত্যু ইরানের সামরিক কাঠামোতে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।