ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সমাপ্তির লক্ষ্য
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প, আগামী কয়েক সপ্তাহের লক্ষ্য

ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সমাপ্তির লক্ষ্য

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় এক মাস হতে চললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এই সংঘাত দ্রুত শেষ করতে চাইছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মহল ও উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন যে তিনি যুদ্ধকে আর দীর্ঘায়িত করতে চান না। বরং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান যুদ্ধের ইতি টানতে চান তিনি।

ট্রাম্পের মনোযোগ এখন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে

ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্ররা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দান থেকে তার মনোযোগ এখন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে সরছে। সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন, এবং ট্রাম্প বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের পাঠানো ও কংগ্রেসে ভোটারদের যোগ্যতা সংক্রান্ত কঠোর আইন পাস করার কৌশল নিয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন। ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীকে ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধ তার অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে।

ট্রাম্পের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ কী হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তার কিছু মিত্র চাইছেন ট্রাম্প এবার কিউবার কমিউনিস্ট শাসন উৎখাতে মনোযোগী হোন। অন্যদিকে ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা চাইছেন তিনি জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দিন, যা যুদ্ধের কারণে আরও প্রকট হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কূটনৈতিক সমঝোতা ও সামরিক চাপের কৌশল

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রতি নতুন করে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তা থেকেও কিছুটা সরে এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রাথমিক প্রস্তাবগুলো আদান-প্রদান করছেন। তবে একই সঙ্গে ইরানকে চাপে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের একটি পরিকল্পনা রয়েছে যুদ্ধ শেষের চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের তেলের কিছু অংশে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার নিশ্চিত করতে। যদিও এই বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা শুরু হয়নি।

হোয়াইট হাউসের অবস্থান ও হুঁশিয়ারি

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই সঙ্গে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অসাধারণ দক্ষ। তবে সন্ত্রাসী ইরানি শাসনের বিরুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে তিনি বর্তমানে লেজারের মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছেন। প্রেসিডেন্টের একমাত্র লক্ষ্য সবসময়ই বিজয়।'

বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান যদি যুদ্ধ শেষ করার চুক্তিতে না আসে, তবে তাদের ওপর এমন কঠোর আঘাত করা হবে যা তারা আগে কখনও দেখেনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফাঁকা বুলি দেন না এবং তিনি নরক উন্মোচনের জন্য প্রস্তুত।

সেনা পাঠানো ও হতাহতের উদ্বেগ

ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনা পাঠানোর ক্ষমতা ট্রাম্পের থাকলেও তিনি তা করতে কিছুটা দ্বিধান্বিত। কারণ এতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বাড়া নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। এ পর্যন্ত যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, ইরান বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। তিনি পর্দার আড়ালে কখনও কূটনীতি, আবার কখনও হামলা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। কেউ কেউ তাকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারলে সেটি ইতিহাসে তার বড় অর্জন হিসেবে গণ্য হবে।

যুদ্ধ শেষের চ্যালেঞ্জ ও আঞ্চলিক প্রভাব

যুদ্ধ শেষ করা শুধু ট্রাম্পের একার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তেহরান এখনও অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। কোনও সামরিক বিজয় বা চুক্তি ছাড়া যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধই থেকে যাবে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। ইসরায়েলও ইরানের হুমকিকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াও তারা অভিযান চালিয়ে যেতে পারে।

এদিকে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার পদাতিক সেনা পাঠাচ্ছে যাতে প্রেসিডেন্টের হাতে সব ধরণের বিকল্প খোলা থাকে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্রাম্প ইরানের ভেতরে বা দেশটির দক্ষিণ উপকূলের দ্বীপগুলোতে ঝটিকা অভিযানের নির্দেশ দিতে পারেন। প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ মঙ্গলবার ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, 'আমরাও এই আলোচনার অংশ। আমরা বোমা দিয়ে আলোচনা করি।'

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের অবস্থান

ট্রাম্পের মতে, হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনায় কিছুটা 'হতাশ'। ট্রাম্প বলেন, 'তারা সমঝোতায় আগ্রহী ছিল না, তারা কেবল জয় চেয়েছিল।'

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ছে। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ফ্লোরিডার একটি অঙ্গরাজ্যের আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, ওই এলাকায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্ট অবস্থিত। উচ্চমূল্যস্ফীতি এবং ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ায় রিপাবলিকানরা উদ্বিগ্ন যে যুদ্ধ তাদের রাজনৈতিক সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এত কিছুর মধ্যেও ট্রাম্প রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সময় দিচ্ছেন। শুক্রবার মার-এ-লাগোতে এক চ্যারিটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'আমার আজ এখানে থাকার কথা ছিল না। আমার যুদ্ধ পরিচালনা করার কথা, কিন্তু যুদ্ধ খুব ভালোভাবেই চলছে।'