ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত
ইসরায়েলের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের হাদেরায় অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভিডিও ফুটেজে ধোঁয়ার কুণ্ডলী
বিবিসি কর্তৃক যাচাইকৃত একটি ভিডিও ফুটেজে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি কুলিং টাওয়ারের পাশ থেকে ধূসর ধোঁয়া আকাশের দিকে উঠতে দেখা যায়। বিবিসি স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, ভিডিওটি সাম্প্রতিক এবং ঘটনাস্থলটি হাদেরার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রেরই। ২০২২ সালে কয়লাচালিত কেন্দ্র থেকে গ্যাসচালিত স্থাপনায় রূপান্তরিত এই কেন্দ্রটি ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোর অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
হামলার বিস্তারিত ও ক্ষয়ক্ষতি
বিবিসির তথ্যমতে, ভিডিওটি আজই প্রথম অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। এদিকে, এই হামলার প্রেক্ষিতে ইসরায়েল ইলেকট্রিক করপোরেশনের বরাত দিয়ে ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মূল অবকাঠামোতে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি এই হামলার কথা স্বীকার বা বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো দেওয়া হয়নি।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত গুরুত্ব
তবে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনায় ইরানের সক্ষমতার প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হাদেরা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইসরায়েলের শক্তি সরবরাহের একটি কেন্দ্রবিন্দু, তাই এর উপর হামলা দেশটির অবকাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করতে পারে।
এই হামলার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধির একটি সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করছেন। ভবিষ্যতে আরো উত্তেজনা এড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জরুরি বলে মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।



