মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শাহ আমানত বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে গত ২৪ দিনে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ১৭৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য রুটের সকল ফ্লাইট মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
প্রতিদিন ৭-৮টি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রকৌশলী ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ও যুদ্ধবিগ্রহের পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। সর্বশেষ সোমবার একদিনেই মধ্যপ্রাচ্য রুটের ৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখনও চালু রয়েছে, তবে তা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগমনকারী ৬টি অ্যারাইভাল ফ্লাইট এবং মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫টি ডিপার্চার ফ্লাইট সচল আছে।"
কোন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?
সোমবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর বিস্তারিত বিবরণে দেখা যায়:
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ৩টি অ্যারাইভাল ফ্লাইট
- ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী ২টি ডিপার্চার ফ্লাইট
- এয়ার আরাবিয়ার ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার ফ্লাইট
এছাড়াও সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলোর স্থবিরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই রুটগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ এয়ারফিল্ড বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে।
প্রবাসী ও বিদেশগামী যাত্রীদের উপর প্রভাব
এই ফ্লাইট বাতিলের সরাসরি প্রভাব পড়েছে হাজার হাজার প্রবাসী ও বিদেশগামী যাত্রীর উপর। আগাম টিকিট করে রাখা মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা দেশে ফিরতে পারছেন না, আবার দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থান বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনাকারী যাত্রীরাও বিপাকে পড়েছেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধ শুরুর পরপরই মধ্যপ্রাচ্য রুটের বেশিরভাগ এয়ারফিল্ড বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যার ফলে শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্য রুটের ফ্লাইট চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো।
চট্টগ্রামের এই একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাধারণত দিনে数十টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়, যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য রুটের ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্য রুটের ফ্লাইট পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



