ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলে আহত ৪,৮২৯ জন, ১২ জনের অবস্থা গুরুতর
ইরানি হামলায় ইসরাইলে আহত ৪,৮২৯ জন, ১২ জন গুরুতর

ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলে আহত ৪,৮২৯ জন, ১২ জনের অবস্থা গুরুতর

ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় এ পর্যন্ত ইসরাইলে আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৮২৯ জন। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আহতদের মধ্যে ১১১ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।

পটভূমি: ইরানের পরমাণু সংলাপ ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই এই সংলাপ শেষ হয়। এর পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরাইলও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইরানে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান চালায়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এই যৌথ হামলায় ইতোমধ্যে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইরানে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের পাল্টা হামলা: ৭৭তম বারের মতো আক্রমণ

এদিকে, ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরান নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, তারা ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে ‘৭৭তম’ বারের মতো হামলা শুরু করেছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিবৃতিতে বলা হয়, হামলাগুলো ইসরাইলের উত্তর, কেন্দ্র ও দক্ষিণ অংশে চালানো হয়েছে। এতে ‘সুপার-হেভি’ এবং ‘পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট’ সিস্টেম, খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র ও ধ্বংসাত্মক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ইরান আরও দাবি করেছে যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিকেও লক্ষ্য করেছে। এর মধ্যে কুয়েতে আলি আল সালেম, সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আল-দাফরা ঘাঁটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সংঘাতের ফলে ইসরাইলে আহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।