কলম্বিয়ায় মার্কিন অনুদানপ্রাপ্ত সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ৯০ সেনা নিহত, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
কলম্বিয়ায় মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত: ৯০ সেনা নিহত

কলম্বিয়ায় মার্কিন অনুদানপ্রাপ্ত সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ৯০ সেনা নিহত, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

কলম্বিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সামরিক বিমান বিপর্যয় ঘটেছে, যেখানে একটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৯০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে, পুয়ের্তো লেগুইজামোর নিকটবর্তী 'লা তাগুয়া' বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মুহূর্ত পরেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি পেরু সীমান্তের কাছে দক্ষিণ পুতুমায়ো বিভাগের ঘন জঙ্গলে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়, যা দেশটির জন্য একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বেসরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮০ জনের লাশ ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় প্রায় ২০ জনকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলে বিশাল ধূসর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ আগুনে পুড়ছে। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর শোনা গেছে, যেখানে বেসামরিক লোকজন এবং ইউনিফর্মধারী কর্মীরা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংযোগ: কেন নাম আসছে?

এই বিমান দুর্ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখযোগ্যভাবে আলোচনায় এসেছে। এফএসি-১০১৬ নিবন্ধিত বিমানটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের 'এক্সেস ডিফেন্স আর্টিকেলস' প্রোগ্রামের মাধ্যমে কলম্বিয়ায় এসেছিল। ওয়াশিংটন থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া তিনটি সি-১৩০এইচ হারকিউলিস বিমানের মধ্যে এটি ছিল প্রথম, যার প্রতিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ডলার। বিমানটি মূলত মার্কিন বিমান বাহিনীতে সিরিয়াল নম্বর ৮৩-০৪৮৮ এর অধীনে পরিচালিত হতো এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কলম্বিয়ান অ্যারোনটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে এর রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিমানের প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত প্রভাব

লকহিড মার্টিনের তৈরি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানটি ১৯৫০-এর দশক থেকে বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। চারটি অ্যালিসন টি৫৬ টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন দ্বারা চালিত এই বিমানটি ছোট এবং অপ্রস্তুত রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা পুতুমায়োর মতো সীমিত অবকাঠামোর অঞ্চলে অপরিহার্য। দুর্ঘটনার সময় নিকটস্থ পুয়ের্তো আসিস স্টেশনের আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যে ২৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ২৪° সেলসিয়াস ডিউ পয়েন্ট রেকর্ড করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উচ্চ আর্দ্রতা নির্দেশ করে। এই ধরনের আর্দ্রতা উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা এবং লিফট কমিয়ে দিতে পারে, যা দুর্ঘটনার একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উড্ডয়নের জটিল মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটি বা ওজনজনিত সমস্যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেড্রো আরনুলফো সানচেজ এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সামরিক ইউনিটগুলো দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা বা দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সানচেজ জনগণকে সরকারি তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

উদ্ধার অভিযান ও স্থানীয় বর্ণনা

এক স্থানীয় বাসিন্দা কলম্বিয়ান রেডিওতে উদ্ধার অভিযানের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, 'আমরা একটি খামার এলাকায় আছি যেখানে বিমানটি পড়েছে এবং আমরা সব আহতদের জড়ো করছি। আমরা তাদের পুলিশের গাড়িতে তুলে দিয়েছি এবং শহরের মানুষ মোটরসাইকেলে করে তাদের বহন করতে সাহায্য করছে।' এই ঘটনা কলম্বিয়ার সামরিক ইতিহাসে একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নীতির উপর প্রশ্ন তুলেছে।