ইরানের কদর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল ইসরাইল, হাইফায় গুচ্ছ বোমা আঘাত হেনেছে
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ৭৮তম দফায় প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরাইলে আঘাত হানার ঘটনা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) সকালে উত্তর ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর হাইফা শহরে একটি ক্লাস্টার বোমা বা গুচ্ছ বোমা একটি বাড়িতে আঘাত হেনেছে। এই হামলায় উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
হাইফায় গুচ্ছ বোমা আক্রমণ ও আহতের ঘটনা
আইআরজিসি নতুন দফায় হামলার পর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা ইসরাইলে গুচ্ছ বোমা দিয়ে সজ্জিত কদর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরাইলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম জানায়, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে তারা ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিয়েছে, যিনি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের ওপর পা দিয়ে আহত হয়েছিলেন। এছাড়া নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় একজন নারী আঘাত পেয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত ও সতর্কতা
কিছুক্ষণ আগে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, তবে এটি একটি খোলা জায়গায় পড়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আগেভাগেই এটি শনাক্ত করে সতর্কতা জারি করেছিল, যার ফলে তেল আবিব এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশে সাইরেন বেজে ওঠে। সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত চলা দীর্ঘ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধারাবাহিকতায় এই সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটল। মূলত ইসরাইলের মধ্যাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়, যার ফলে জেরুজালেম, হাইফা, তেল আবিব এবং পশ্চিম গ্যালিলি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
ক্লাস্টার ওয়ারহেডের ব্যবহার ও ক্ষয়ক্ষতি
ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্তত একটিতে ক্লাস্টার বা গুচ্ছ ওয়ারহেড ছিল, যা থেকে ছোট ছোট অনেক বোমা ছড়িয়ে পড়ে। বন্দর নগরী হাইফার আশেপাশে এ ধরনের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র আসার সংকেত পাওয়ার পর ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। সামরিক বাহিনী আরও জানায়, গত কয়েক মিনিটের মধ্যে হোম ফ্রন্ট কমান্ড সংশ্লিষ্ট এলাকার মোবাইল ফোনগুলোতে সরাসরি সতর্কতামূলক নির্দেশনা পাঠিয়েছে। জনসাধারণকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে প্রবেশ করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
এই হামলার পটভূমিতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সূত্র হিসেবে জেরুসালেম পোস্ট ও আল জাজিরার প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে।



