কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ৬৬ জনের মৃত্যু, আহত কয়েক ডজন
কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ভয়াবহ ঘটনায় অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। সোমবার উড্ডয়নের পরপরই ঘটা এই দুর্ঘটনায় ১২৮ জন আরোহী ছিলেন বলে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার স্থান ও বিবরণ
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, আমাজন অঞ্চলের পুতুমায়ো প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকা পুয়ের্তো লেগুইজামোতে এই ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’টি ঘটে। এলাকাটি পেরু ও ইকুয়েডর সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল হুগো আলেহান্দ্রো লোপেজ বারেতো বলেছেন, এখনও চার সামরিক কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনায় ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। পুতুমায়ো বিভাগের গভর্নর ঝন গ্যাব্রিয়েল মলিনা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কারাকল নোটিসিয়াসকে বলেন, নিহতদের মধ্যে ২১ জনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বিমানের ধরন ও কারণ
কলম্বিয়ার বিমান বাহিনী জানিয়েছে, লকহিড মার্টিনের তৈরি হারকিউলিস সি-১৩০ মডেলের বিমানটি পুতুমায়ো প্রদেশের এক শহর থেকে অন্য শহরে সেনাদের পরিবহন করছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সানচেজ জানান, রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের মাত্র ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরে বিমানটি আছড়ে পড়ে। বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং ভেতরে থাকা গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হতে শুরু করে। তবে এটি কোনও সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা নয় বরং নিছক দুর্ঘটনা বলেই প্রাথমিক ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম
কলম্বিয়ার বিমান বাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা জানিয়েছেন, আহতদের রাজধানী বোগোতাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে ৭৪টি বেড সুবিধাসম্পন্ন দুটি বিশেষ বিমান দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
কলম্বিয়ার বিমান বহরের ইতিহাস
কলম্বিয়া ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে তাদের প্রথম হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান বহরে যুক্ত করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো নতুন মডেলের বিমানের পাশাপাশি পুরোনো কিছু বিমান আধুনিকায়নও করেছে দেশটি।
সম্প্রতি অনুরূপ ঘটনা
উল্লেখ্য, গত মাসেই বলিভিয়ার বিমান বাহিনীর একটি হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান এল আল্টো শহরে বিধ্বস্ত হয়েছিল। একটি আবাসিক ভবনের খুব কাছে ঘটা সেই দুর্ঘটনায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছিলেন।



