কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ৬৪ জনের মৃত্যু, আহত অনেকে
কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের পুতুমায়ো প্রদেশে একটি সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল পেরু সীমান্তবর্তী পুয়ের্তো লেগুইজামো এলাকায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের সংখ্যা এখনো অনিশ্চিত, তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
পুতুমায়ো অঞ্চলের গভর্নর জন গ্যাব্রিয়েল মোলিনা নিশ্চিত করেছেন, সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের উড়োজাহাজটি মাটিতে আছড়ে পড়ে কয়েক টুকরা হয়ে যায় এবং তীব্র আগুন ধরে যায়। উদ্ধার অভিযানে সেনাসদস্যরা অংশ নিয়েছেন, যারা জীবিত আরোহীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় রেঞ্জার নিকোলাস ওরদোনেজ জানান, বেশ কয়েকজন আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী বোগোতায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
যাত্রী ও ক্রুদের পরিচয়
গভর্নর মোলিনার বর্ণনা অনুযায়ী, উড়োজাহাজটিতে মোট ১১৪ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ১১২ জন কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বাকি দুজন পুলিশ কর্মকর্তা। এ ছাড়া উড়োজাহাজে ১১ জন ক্রু ছিলেন, যারা সবাই দক্ষ বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন, তবে এটি কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা বলে মনে হচ্ছে না।
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
সিএনএনের বিশ্লেষণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, উড়োজাহাজটি কাউকায়া বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি গ্রামীণ এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বিমানবন্দর থেকে দুই মাইলেরও কম দূরত্বের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি সি-১৩০এইচ হারকিউলিস মডেলের, যা ১৯৬৫ সালে ব্যবহার শুরু হয় এবং ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী কলম্বিয়াকে অনুদান হিসেবে দিয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক মন্তব্য
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এমন দুর্ঘটনা কাম্য ছিল না।’ প্রেসিডেন্ট পেত্রো সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে ব্যর্থতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটার কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এটি গত কয়েক মাসের মধ্যে কলম্বিয়ায় দ্বিতীয় বড় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা; জানুয়ারিতে কুকুতা এলাকায় একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে রাজনীতিবিদ দিওজেনেস কুইন্তেরোসহ সব আরোহী নিহত হয়েছিলেন।
দুর্ঘটনার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে ধ্বংসাবশেষ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী বের হতে দেখা গেছে, যা উদ্ধার কাজকে জটিল করে তুলছে। কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনা দেশটির সামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে পুরোনো মডেলের উড়োজাহাজগুলোর ব্যবহার নিয়ে।



