ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু আক্রান্ত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার দাবি করার পরপরই তেহরান আবার ইসরাইলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি নামিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের চলমান প্রতিশোধমূলক 'অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪'-এর ৭৮তম ধাপের ঘোষণা দিয়েছে।
লক্ষ্যবস্তুতে কী ঘটেছে?
এই নতুন দফার হামলায় ইসরাইলের অত্যন্ত সংবেদনশীল কয়েকটি স্থান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ডিমোনা, তেল আবিব এবং ইলাত বন্দর ছাড়াও ওই অঞ্চলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, দখলকৃত ইলাত বন্দর, সুরক্ষিত শহর ডিমোনা (যেখানে ইসরাইলি শাসকের কুখ্যাত পারমাণবিক চুল্লি অবস্থিত) এবং উত্তর তেল আবিবের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ইমাদ এবং মাল্টি-ওয়ারহেড কদর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও অ্যাটাক ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
একটি অনন্য রেকর্ডের দাবি
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে এই সর্বশেষ পর্যায়কে 'যুদ্ধের ইতিহাসে একটি অনন্য রেকর্ড স্থাপন' হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি জানায়, যখন ইরানের জাতি 'মুষ্টিবদ্ধ হাতে' লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে, ঠিক তখনই শত্রুর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষিত হয়েছে।
এই হামলা নিয়ে আইআরজিসি দ্বিতীয়বারের মতো ডিমোনাতে আঘাত হেনেছে। এর কয়েক দিন আগেই তারা একটি পাল্টা হামলা চালিয়েছিল, যা অধিকৃত অঞ্চলজুড়ে ভীতির সঞ্চার করেছিল। ওই পূর্ববর্তী হামলায় ডিমোনা এবং এর পার্শ্ববর্তী শহর আরাদে ২০০-এর বেশি মানুষ হতাহত হয়েছিল বলে জানা গেছে।
আঘাত-নির্ভর অভিযানের হুমকি
আইআরজিসির বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে যে, তারা 'এই ঘৃণ্য ও শিশু হত্যাকারী আগ্রাসনকারীদের সঙ্গে আঘাত-নির্ভর অভিযানের মাধ্যমে কথা বলছে'। আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইআরজিসির অধিকাংশ কমব্যাট ইউনিট এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের লাখ লাখ বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী এখনও যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেনি। তাদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সংঘাতকে আরও তীব্র করবে এবং আগ্রাসনকারীদের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে পরাজয় কাটিয়ে ওঠার বা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা নজরে রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যেকোনো পর্যায়ের আগ্রাসনের পরিকল্পনাকারী, বাস্তবায়নকারী এবং সমর্থকদের ওপর ইরানের 'তীব্র আঘাত' অত্যন্ত দ্রুত নেমে আসবে।
পটভূমি ও সময়ক্রম
গত মাসের শেষের দিকে ইরানবিরোধী সামরিক তৎপরতা শুরু হওয়ার পরপরই 'অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪' শুরু হয়। এই অভিযান ইরানের প্রতিশোধমূলক সামরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ পর্ব হিসেবে চিহ্নিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচনার দাবি সত্ত্বেও ইরানের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি পারমাণবিক স্থাপনা ডিমোনার ওপর বারবার হামলা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের অভিযানের মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।



