কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ৩৪ নিহত, ৭৭ আহত, প্রেসিডেন্টের কঠোর প্রতিক্রিয়া
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৩৪ নিহত

কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ৩৪ জনের মৃত্যু, প্রেসিডেন্টের কঠোর বার্তা

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪ জন নিহত এবং ৭৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানটিতে মোট ১২১ জন আরোহী ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই সৈন্য।

দুর্ঘটনার স্থান ও উদ্ধার অভিযান

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এক্সে নিশ্চিত করেছেন যে, এই দুর্ঘটনা আমাজনীয় প্রদেশ পুতুমায়োর প্রত্যন্ত পৌরসভা পুয়ের্তো লেগুইজামোতে ঘটেছে, যা পেরু ও ইকুয়েডর সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানটিতে ১১০ সৈন্য ও ১১ ক্রু সদস্য ছিলেন। বিমানটি পুতুমায়ো প্রদেশের অন্য একটি শহরে সৈন্য পরিবহনের জন্য যাত্রা করেছিল।

উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের মোটরসাইকেলে করে আহত সৈন্যদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিমানবাহিনী কমান্ডার কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা জানিয়েছেন, বিমানটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয় এবং সমস্যার কারণ এখনও অজানা। আহতদের চিকিৎসার জন্য রাজধানী বোগোটা ও অন্যান্য স্থানে ৭৪টি বেড সংবলিত দুটি বিমান পাঠানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রেসিডেন্ট পেত্রোর প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রভাব

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকীকরণের দীর্ঘদিনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার’ কারণে এই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে। পেত্রো স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বেসামরিক বা সামরিক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অক্ষম হন, তবে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিরক্ষামন্ত্রী সানচেজ এই ঘটনাকে দেশের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করে প্রার্থনার মাধ্যমে শোক লাঘবের আশা প্রকাশ করেছেন। কলম্বিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো অনলাইনে ছবি শেয়ার করেছে, যাতে বিধ্বস্ত বিমান থেকে কালো ধোঁয়া ওঠা এবং সৈন্যদের ট্রাকে করে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

এই দুর্ঘটনা কলম্বিয়ার সামরিক অবকাঠামো ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা দেশের নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।