ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র দেখে দৌড়ে পালালেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হারজগ, ভিডিও ভাইরাল
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ একটি সংবাদ সম্মেলনে থাকাকালীন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে দৌড়ে পালানোর দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে গেছে। এই ঘটনাটি উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে, উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহরে একটি সংবাদ সম্মেলন করছিলেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা শেষ করতেই ওই এলাকায় ইরানের একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্রটি দেখে তিনি দ্রুত সাংবাদিকদের রেখেই দৌড়ে পালাতে শুরু করেন। তার সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ভিডিওটিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, কীভাবে হারজগ আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে পালাচ্ছেন, যা ইসরাইল-ইরান সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতির তীব্রতা তুলে ধরছে।
পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা ঘটার আগে, সংবাদ সম্মেলনে হারজগ ইসরাইলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন যে, দেশটি গত বছরের যুদ্ধবিরতিতে ফিরে যেতে পারে না এবং লেবাননের ভেতরে ‘কৌশলগত গভীরতা’ নিশ্চিত করতে হবে। তার এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই উত্তেজনা বাড়িয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরু হয়েছে, যার জবাবে ইরান কঠোর প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায় না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ইসরাইল-ইরান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
এছাড়াও, এই ঘটনা ইসরাইলের নেতৃত্বের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে বলে কিছু বিশ্লেষক মত প্রকাশ করেছেন। হারজগের দৌড়ে পালানো দৃশ্য দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলছে এবং এটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র হিসেবে আল জাজিরার প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে। চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা আরও উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



