ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের পাল্টা হুমকি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে না দিলে এই হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পূর্বাঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে এই হুমকি দিয়ে পোস্ট করেন। তাঁর দেওয়া সময়সীমা সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে (তেহরান সময় মঙ্গলবার ভোররাত ৩টা ১৪ মিনিট) শেষ হওয়ার কথা ছিল।
ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের হুমকির পরদিন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানিকেন্দ্রগুলো স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করে সতর্ক করে বলেছে, ট্রাম্প যদি তাঁর হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে এ অঞ্চলের দেশগুলো যেন বিদ্যুৎকে বিদায় জানায়।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে দ্বন্দ্ব
জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি জানান, ইরানের শত্রু দেশগুলোর জাহাজ বাদে বাকি সবার জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে দিনের শেষ ভাগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায় তবে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য এই প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত। আজ ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আবারও জানিয়েছে, দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রে যেকোনো হামলার একই ধরনের জবাব দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের হামলা স্থগিত ও ইরানের অস্বীকার
এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং তিনি ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকেন্দ্রগুলোয় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখবেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার কথা তেহরান অস্বীকার করেছে। তারা ট্রাম্পের এই দাবিকে জ্বালানির দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে দেখছে।
এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষের হুমকি ও পাল্টা হুমকি অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



