যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ইরানের কাছে নিরাপত্তা চাইল
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার জবাবে ইরান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার টালমাটাল হয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্র হয়।
মার্কিন আহ্বানে সাড়া দেয়নি মিত্ররা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন মিত্র দেশের কাছে যুদ্ধজাহাজ চেয়েছিলেন, যাতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা যায়। কিন্তু তার ডাকে কেউ সাড়া দেয়নি। পরে তিনি নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই সমুদ্রপথ দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চালানোর আহ্বান জানান, কিন্তু তাতেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হন। বরং অনেক দেশ ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে নিজেদের জ্বালানি সংকট মেটানোর চেষ্টা করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অনন্য সিদ্ধান্ত
এবার এই তালিকায় যুক্ত হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা করতে না পেরে সিউল সরাসরি ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন ইরানকে এই বিষয়ে আহ্বান জানান, ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায়।
ইরান ও মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে ক্রমাগত বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় এশীয় শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা 'ওন'-এর মান গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা এই কূটনীতিকের মন্তব্যের পটভূমি তৈরি করেছে।
বৈশ্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে মার্কিন নেতৃত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান সন্দেহের ইঙ্গিত দেয়। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রের এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুটি শুধু জ্বালানি নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আল জাজিরা।



