ট্রাম্পের নতুন ফাঁদে আরব দেশগুলো: যুদ্ধ বন্ধে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার দাবির অভিযোগ
ওমানের সাংবাদিক সালেম আল-জুহুরি বিবিসি অ্যারাবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় আরব মিত্র দেশগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেছেন। এই দাবি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বা বন্ধ করার সঙ্গে জড়িত বলে জানানো হয়েছে। জুহুরির মতে, ফাঁস হওয়া কিছু তথ্য থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে এই অর্থ চেয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধ বা চালিয়ে যাওয়ার শর্ত
জুহুরি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, 'মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন যে, জিসিসি রাষ্ট্রগুলো যদি এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় তবে তাদের প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার দিতে হবে। আর যদি তারা এটি বন্ধ করতে চায়, তবে এই কয়েক দিনে যা অর্জিত হয়েছে তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার দিতে হবে।' এই কথিত দাবিগুলো চলমান যুদ্ধের সময় আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপের অভিযোগ
জুহুরি আরও অভিযোগ করেন যে, মার্কিন প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে সামরিক ও আর্থিকভাবে এই সংঘাতে অংশ নিতে চাপ দিচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংঘাতের আর্থিক ও সামরিক মাত্রার আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যগুলো করা হয়েছে। তবে, এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা উপসাগরীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মন্তব্যগুলো বিবিসি অ্যারাবিক সম্প্রচারের সময় উল্লিখিত 'ফাঁস হওয়া তথ্যের' ওপর ভিত্তি করেই রয়ে গেছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ক্ষয়ক্ষতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। এই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত ১৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরান এর প্রতিশোধ হিসেবে ইসরাইলসহ জর্ডান, ইরাক ও মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাত বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
উল্লেখ্য, ইরানে যৌথভাবে আগ্রাসন চালাচ্ছে গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ক্ষতির পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোরও ক্ষতি হয়েছে। যদিও কয়েকটি আরব দেশের অনুরোধে ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালায় বলে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল, পরে সৌদি আরব তা অস্বীকার করলেও সংঘাতের কারণে ভুগতে হচ্ছে ইরানের প্রায় সব প্রতিবেশীকেই।



