ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল স্থাপনা ধ্বংসের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকিতে তেল স্থাপনা ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল স্থাপনা ধ্বংসের পাল্টা হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যেই ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও তেল স্থাপনাগুলো ‘অপরিবর্তনীয়ভাবে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে রবিবার এই হুমকির কথা জানানো হয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পার্লামেন্ট স্পিকারের কঠোর বক্তব্য

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমাদের দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসহ জ্বালানি ও তেল স্থাপনাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সেগুলো চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’ তাঁর এই মন্তব্য ইরানের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের একটি দৃঢ় প্রকাশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের পাল্টা জবাব

এর আগে শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘ধূলিসাৎ’ করে দেবে। ঘালিবাফ এই হুমকির পাল্টা জবাবে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে তার পরিণতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ‘দীর্ঘ সময়ের জন্য’ আকাশচুম্বী হয়ে যাবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্রের সতর্কবার্তা

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্রও একই সুরে কথা বলেছেন, জানিয়েছেন যে ইরানের ওপর হামলা হলে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব জ্বালানি এবং পানি শোধন কেন্দ্রে পাল্টা আঘাত করা হবে। এই হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে শুধু তেল নয়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

হরমজ প্রণালি অবরোধ ও বৈশ্বিক প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে তেহরান কার্যত হরমজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে ১৯৭০-এর দশকের পর ভয়াবহতম তেল সংকট তৈরি হয়েছে, যা অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।

তবে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি দাবি করেছেন, এই জলপথটি ইরানের শত্রু দেশগুলো ছাড়া বাকি সবার জন্যই উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যা পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে।

যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা

যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রবিবার বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ইরান-বিরোধী এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেন। দক্ষিণ ইসরায়েলের আরাদ শহরে ইরানি হামলার স্থল পরিদর্শনকালে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউরোপের গভীরেও আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইরান, মিসর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে টেলিফোনে কথা বলেছেন। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে তুর্কি কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, যা শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি আশার আলো হিসেবে দেখা যাচ্ছে।