ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) ইরানের সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিমান শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার হরমুজ দ্বীপের কাছে উড়ন্ত ওই বিমানটি প্রথমে শনাক্ত করা হয় এবং তারপর সেটিকে অনুসরণ করা শুরু করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। পরবর্তীতে একটি স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করে বিমানটিকে স্পষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তদন্ত চলমান
বিমানটির বর্তমান অবস্থা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পূর্বের হামলার দাবি
এর আগে শনিবার, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছিল যে তারা কেন্দ্রীয় ইরানের আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট
আইআরজিসি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি ‘শত্রু’ আকাশযান—যার মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল, ট্যাংকার বিমান ও উন্নত যুদ্ধবিমান রয়েছে—ট্র্যাক ও প্রতিহত করেছে ইরানের বাহিনী।
সংস্থাটি দাবি করে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানের আকাশসীমায় আরও দুটি যুদ্ধবিমান—একটি মার্কিন এফ-১৫ এবং একটি এফ-১৫ই—কেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
পূর্ববর্তী ঘটনাবলি
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানসহ বিভিন্ন ইরানি শহরে যৌথ হামলা চালায়, যাতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে দাবি করা হয়।
এরপর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই চলমান উত্তেজনারই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।



