ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য, আহত ৩৯
ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য

ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য, আহত ৩৯

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের দিমোনা পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্র লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। দক্ষিণ ইসরায়েলের এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থাপনায় হামলায় অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই খবর প্রথম প্রকাশ করেছে।

হামলার পটভূমি ও ইরানের বক্তব্য

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, রবিবার সকালে ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হওয়া হামলার ‘জবাব’ হিসেবে দিমোনায় এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা দাবি করেছে, নাতাঞ্জ কমপ্লেক্স হামলার শিকার হলেও সেখানে কোনও তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়েনি। তবে এই হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসরায়েলের নিশ্চিতকরণ ও আহতের সংখ্যা

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দিমোনা শহরের একটি ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ‘সরাসরি আঘাতের’ সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ওই ভবনেই একটি পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হামলায় অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই হালকা থেকে মাঝারি আঘাত পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দিমোনা কেন্দ্রের গুরুত্ব ও গোপনীয়তা

দিমোনা শহরটি ইসরায়েলের অন্যতম সুরক্ষিত ও স্পর্শকাতর স্থান শিমরন পেরেস নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার-এর কাছে অবস্থিত। দীর্ঘকাল ধরে এই কেন্দ্রটি ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হয়। তবে ইসরায়েল বরাবরের মতোই তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব বজায় রেখেছে; তারা এই অস্ত্রভাণ্ডারের অস্তিত্ব স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করে না।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, তারা দিমোনায় হামলার খবর সম্পর্কে অবগত। তবে ওই অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের সঙ্গে তারা কতটুকু তথ্য শেয়ার করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নাতাঞ্জে হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই দিমোনায় এই পাল্টা আঘাত হানলো তেহরান। ইরান এই আক্রমণকে অপরাধমূলক হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, নাতাঞ্জে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন এবং এনপিটি চুক্তি লঙ্ঘন করা হয়েছে।

ইরানের নতুন রণকৌশল ও ভবিষ্যত হুমকি

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এখন তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করেছে। এখন থেকে ইরান আর ‘সমানুপাতিক’ প্রতিশোধের নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সূত্রটি জানায়, শত্রুদের বোঝা উচিত যে তারা যদি আমাদের একটি অবকাঠামোতে আঘাত করে, তবে আমরা তাদের একাধিক অবকাঠামোতে হামলা চালাব। যদি তারা কোনও শোধনাগার বা গ্যাস স্থাপনায় আক্রমণ করে, তবে আমরা তাদের একই ধরনের একাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে মোক্ষম শিক্ষা দেব।

সূত্রটি আরও জানায়, তেহরান এখন যেকোনও হামলার চড়া মূল্য আদায় করতে চায় এবং ভবিষ্যতে তাদের প্রতিক্রিয়া হবে আরও ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক। এই নতুন কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।