ইরানের দাবি: বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে উন্নত ড্রোন হামলা
ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, উন্নতমানের ‘আরাশ-২’ ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই হামলায় ব্যবহৃত অধিকাংশ ড্রোনই ছিল আরাশ-২ মডেলের, যার পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
আরাশ-২ ড্রোনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
ইরানের সেনা মুখপাত্রের মতে, আরাশ-২ ড্রোনটি পূর্ববর্তী কিয়ান ও আরাশ-১ মডেলের তুলনায় আরও উন্নত ও বিধ্বংসী ক্ষমতা সম্পন্ন। তিনি দাবি করেন, এই ড্রোনের রাডারে শনাক্তযোগ্যতা অত্যন্ত কম হওয়ায় শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলা সহজ হয়েছে। তবে, এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই বা নিশ্চিতকরণ এখনো সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের হার
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান ইতোমধ্যে ৪০০-র বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ সোসানি বলেন, ইরান ৪০০-র বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং আমাদের প্রতিহত করার হার প্রায় ৯২ শতাংশ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গতকাল শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্তত ১৭৫ জনকে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়েছে। এই ঘটনাটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই হামলা ও পাল্টা দাবিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ইসরায়েলের উচ্চ প্রতিহত হার আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



