সুদানে হাসপাতাল হামলায় ৬৪ নিহত, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মৃত্যুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তীব্র নিন্দা
সুদানে হাসপাতাল হামলায় ৬৪ নিহত, ডব্লিউএইচও প্রধানের তীব্র নিন্দা

সুদানে হাসপাতাল হামলায় ৬৪ নিহত, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মৃত্যুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তীব্র নিন্দা

সুদানের দারফুর অঞ্চলের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ হামলায় ১৩ শিশুসহ অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস। শনিবার (২১ মার্চ) এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, শুক্রবার রাতে পূর্ব দারফুর রাজ্যের রাজধানী আল ডেইনের ‘আল ডেইন টিচিং হাসপাতালে’ এই হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রোগী, দুই নারী নার্স এবং এক পুরুষ চিকিৎসক আছেন।

হামলায় আহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত

এই হামলায় আটজন স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরও ৮৯ জন আহত হয়েছেন বলে টেড্রোস জানান। হামলায় হাসপাতালটির শিশু বিভাগ, প্রসূতি বিভাগ এবং জরুরি বিভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে এবং শহরটিতে জরুরি চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। টেড্রোস বলেন, এই ট্র্যাজেডির কারণে সুদানের চলমান যুদ্ধে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা এখন ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

সুদানের যুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার চিত্র

টেড্রোস আরও জানান, সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই সংঘর্ষে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ২১৩টি হামলায় ২ হাজার ৩৬ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে এই হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুদানের মানবিক সংকটের গভীরতা

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ-এর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে ভয়াবহ সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তৈরি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল মানবিক সংকট; যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দারফুরে আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে, যাকে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা ‘গণহত্যার আলামত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ডব্লিউএইচও প্রধানের জরুরি আহ্বান

টেড্রোস বলেন, “যথেষ্ট রক্তপাত হয়েছে। অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এখন সময় সুদানের এই সংঘাত কমিয়ে আনা এবং বেসামরিক নাগরিক, স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবিক সহায়তা কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই হামলা শুধু একটি হাসপাতালের উপর আক্রমণ নয়, বরং পুরো সুদানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর একটি মারাত্মক আঘাত।

সুদানের এই সংঘাতের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে টেড্রোস বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে যুদ্ধের ময়দানে পরিণত করা চলবে না। এই হামলা সুদানের সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা সেবার অ্যাক্সেসকে আরও সংকুচিত করেছে, যা একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করছে।