ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের বক্তব্যের পরও চলছে প্রস্তুতি
ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে মার্কিন স্থল অভিযানের প্রস্তুতি: ট্রাম্পের বক্তব্যের পরও চলছে সামরিক প্রস্তুতি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ ২০২৬) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুব দ্রুত ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযান পরিচালনা করতে পারেন, যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি এই অভিযান অস্বীকার করেছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে বৈপরীত্য

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার বলেন, 'না, আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। যদি পাঠাতাম, আমি অবশ্যই আপনাদের বলতাম না।' তবে এর মাত্র একদিন পরই সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডাররা ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট চাহিদা জমা দিয়েছেন। এই প্রস্তুতি চলছে এমন সময় যখন প্রেসিডেন্ট মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক সম্পদের যৌথ ব্যবহার নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।

হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা ও পেন্টাগনের ভূমিকা

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে এই প্রস্তুতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, 'সর্বাধিনায়ককে সর্বোচ্চ বিকল্পের সুযোগ দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া পেন্টাগনের কাজ। এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট গতকাল ওভাল অফিসে যেমনটা বলেছেন, তিনি এই মুহূর্তে কোথাও স্থলবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন না।' এই বিবৃতি সত্ত্বেও সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে, যা একটি জটিল কূটনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযানের সম্ভাব্য কৌশল ও চ্যালেঞ্জ

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক উপাদান 'নিরাপদ করা বা সরিয়ে নেয়ার' একটি কৌশল বিবেচনা করছে। যদিও এই ধরনের কোনো অভিযান নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বাস্তবায়নের সময়সীমাও স্পষ্ট নয়। পরিকল্পনায় মূলত বিশেষ বাহিনী ব্যবহার করে একটি সম্ভাব্য অভিযানের দিকেই জোর দেয়া হচ্ছে, যা বিশ্লেষকদের মতে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

মার্কিন স্থলবাহিনীর সম্ভাব্য ব্যবহারের পাশাপাশি, সামরিক কর্মকর্তারা ইরানি সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের আটক করা হলে যুদ্ধবন্দিদের কীভাবে সামলানো হবে এবং তাদের কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র একটি ব্যাপক সামরিক অভিযানের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলা বা স্থল অভিযান হলে তা অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। এই অঞ্চলে ইতিমধ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে, এমন কোনো মিশন আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন সংকট ডেকে আনতে পারে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বব্যাপী নজর রাখা হয়েছে এই বিষয়ে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকে নাড়া দিতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, সিবিএস নিউজের এই প্রতিবেদনটি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোকপাত করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের সাপেক্ষে আরও গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি কী দিকে মোড় নেয়, তা এখনই বলা কঠিন, তবে সামরিক প্রস্তুতির এই খবর নিঃসন্দেহে বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিতর্ককে উসকে দিয়েছে।