ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের আরাদ শহরে ধ্বংসযজ্ঞ
ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদে ইরানের ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৬ জন নিহত এবং ৮৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ১৯ জন মাঝারি আঘাতপ্রাপ্ত। এই হামলায় শহরটির কেন্দ্রস্থলে আবাসিক ভবনের মাঝখানে সরাসরি আঘাত হানার ফলে অন্তত ২০টি ভবন ধসে গেছে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছে।
হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ও উদ্ধার তৎপরতা
হামলার পর আরাদ শহরের একটি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উদ্ধার ও জরুরি তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে মাঠে কর্মরত বাহিনীগুলোকে শক্তিশালী করা যায়। আহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ডিমোনা শহরেও হামলা ও পরমাণু গবেষণাকেন্দ্রের নিরাপত্তা
শুধু আরাদই নয়, ইরানের মিসাইল হামলায় ইসরাইলের ডিমোনা শহরও লণ্ডভণ্ড হয়েছে। এই শহরে উগ্র ইহুদিবাদীদের পরমাণু গবেষণাকেন্দ্র অবস্থিত, তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে গবেষণাকেন্দ্রটি অক্ষত রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এখানে একাধিক ভবন ধ্বংস হয়েছে, যা হামলার ব্যাপকতা নির্দেশ করে।
আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা ও তদন্ত
ইসরাইলি আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেন এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে তদন্ত করবে ইসরাইলি বিমানবাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আরুতজ শেভা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই এটি আরাদ শহরে সরাসরি আঘাত হানে। এই ব্যর্থতা ইসরাইলের প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বাতিল ও সামগ্রিক প্রভাব
ইরানের জোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীর ক্লাস বাতিল করেছে, যা রবি ও সোমবার পর্যন্ত বহাল থাকবে। দক্ষিণ ইসরাইলের আরাদ ও ডিমোনা শহরে এই হামলায় মোট আহতের সংখ্যা প্রায় ১০০ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে শুধু আরাদেই ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।



