ভারত মহাসাগরে মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরান সম্প্রতি ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক ঘাঁটির দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে শুক্রবার (২০ মার্চ) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য জানিয়েছে, যা বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিস্তারিত বিবরণ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মাইল বা ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি পৌঁছাতে পারেনি এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এই হামলা থেকে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে, তেহরানের কাছে আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি রয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এএফপি পেন্টাগনের সঙ্গে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতির জটিলতা নির্দেশ করে। দ্য জার্নালের খবর অনুযায়ী, একটি ক্ষেপণাস্ত্র উড়ন্ত অবস্থাতেই বিকল হয়ে পড়ে, অন্যটি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়। তবে সেটি ধ্বংস করা গেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়, যা সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব
চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়েগো গার্সিয়া সেই দুটি ঘাঁটির একটি, যা ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মার্কিন বাহিনী এই ঘাঁটিতে বোমারু বিমানসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে, যা এশীয় অঞ্চলের কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। এটি অতীতে আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন বিমান হামলার সময় ব্যবহৃত হয়েছিল, যা এর কৌশলগত মূল্য তুলে ধরে।
১৯৬০-এর দশক থেকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পর সম্প্রতি ব্রিটেন তা মরিশাসের কাছে ফেরত দিয়েছে। তবে তারা এই দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়াতে সামরিক ঘাঁটির ইজারা বহাল রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে অনুরূপ হামলা প্রতিরোধে সামরিক কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে।



