শ্রীলঙ্কার কঠোর অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অনুরোধ একসাথে নাকচ
শ্রীলঙ্কা সরকার ইরান সংকটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে শুক্রবার পার্লামেন্টে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, শ্রীলঙ্কার নিরপেক্ষতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অপরিহার্য ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান অবতরণের আবেদন
প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে প্রকাশ করেছেন যে, ওয়াশিংটন গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠিয়েছিল। মার্চ মাসের ৪ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত দক্ষিণ শ্রীলঙ্কার মাত্তালা রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি যুদ্ধবিমান রাখার অনুমতি চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এই বিমান দুটি জিবুতির একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে আটটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে আনার পরিকল্পনা ছিল। উল্লেখ্য, এই অনুরোধ আসার মাত্র দুই দিন পরই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
ইরানের নৌজাহাজ সফরের অনুরোধ
মজার ব্যাপার হলো, ঠিক একই দিনে ইরানের পক্ষ থেকেও একটি অনুরোধ এসে পৌঁছায়। তেহরান সরকার শ্রীলঙ্কায় তিনটি নৌ জাহাজ সৌজন্য সফরের অনুমতি চেয়েছিল, যা আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
নিরপেক্ষতা রক্ষায় কঠোর সিদ্ধান্ত
প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে স্পষ্ট ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন, "সামনে যখন দুটি অনুরোধ একসাথে এলো, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের জন্য সহজ হয়ে গিয়েছিল। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, ইরানকে হ্যাঁ বললে যুক্তরাষ্ট্রকেও হ্যাঁ বলতে হবে, অথবা উল্টোটাও হতে পারে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "শ্রীলঙ্কা কোনো পক্ষকেই সমর্থন দিতে চায়নি, কারণ আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ণ রাখা। তাই আমরা উভয় অনুরোধই নাকচ করে দিয়েছি।"
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও শ্রীলঙ্কার অবস্থান
এই ঘটনা ঘটেছে ইরানে চলমান যুদ্ধের জটিল প্রেক্ষাপটে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি জড়িত। শ্রীলঙ্কার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দেশটি আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক সংঘাতে জড়াতে অনিচ্ছুক।
দিসানায়েকের এই ঘোষণা শ্রীলঙ্কার সংসদে সরাসরি উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশটির স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির একটি দৃঢ় প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ শ্রীলঙ্কাকে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক চাপ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।



