ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি: যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি দিলে 'আগ্রাসনে অংশগ্রহণ' গণ্য হবে
ইরান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তবে তেহরান এটিকে 'আগ্রাসনে অংশগ্রহণ' হিসেবে বিবেচনা করবে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ ও সমালোচনা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফোনালাপে লন্ডনের অবস্থানকে 'নেতিবাচক ও পক্ষপাতদুষ্ট' বলে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে তা ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর পরিণতি গুরুতর হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের জবাব: 'প্রতিরক্ষামূলক ও সীমিত উদ্দেশ্য'
এর জবাবে ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাজ্য কেবলমাত্র 'নির্দিষ্ট, প্রতিরক্ষামূলক ও সীমিত উদ্দেশ্যে' যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট।
মুখপাত্র আরও বলেন, 'আমরা প্রথম হামলায় অংশ নিইনি এবং বৃহত্তর যুদ্ধেও জড়াচ্ছি না।' এই বক্তব্য যুক্তরাজ্যের শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে তুলে ধরে, কিন্তু ইরানের হুঁশিয়ারি অগ্রাহ্য করে না।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান পরিবর্তন
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কারণ তিনি ওই ধরনের হামলাকে অবৈধ বলে মনে করতেন। তবে পরবর্তীতে, মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ সামরিক সম্পদ ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হলে তিনি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে যুক্ত হন।
এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের নীতির পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করে, যা বর্তমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।



