ঈদুল ফিতরের নামাজে আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলি হামলা ও নিষেধাজ্ঞা
শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলি বাহিনী মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়া এবং নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
১৯৬৭-পর প্রথমবারের মতো নামাজে সম্পূর্ণ বাধা
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথমবারের মতো আল-আকসা মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। মসজিদের প্রবেশাধিকার কেবল অল্প সংখ্যক ওয়াকফ কর্মী এবং রক্ষীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারেনি।
এই নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি, ইসরাইলি বাহিনী মসজিদ প্রাঙ্গণে টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে এবং মুসল্লিদের ওপর সরাসরি হামলা চালিয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া এবং সহিংসতা চালানো হয়েছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হেব্রনের ইব্রাহিমি মসজিদেও কঠোর বিধিনিষেধ
একই দিনে হেব্রনের ইব্রাহিমি মসজিদেও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কঠোর সামরিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। হাজার হাজার মানুষকে প্রবেশ করতে না দিয়ে মাত্র কয়েক ডজন লোককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ঈদের উৎসবের সময় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জন্য বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে।
জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর টিয়ার গ্যাস, গ্রেপ্তার এবং অন্যান্য কঠোর ব্যবস্থার কারণে অনেক মুসল্লি রাস্তায় নামাজ পড়তে বাধ্য হয়েছেন। পুরানো শহরজুড়ে ব্যারিকেড তৈরি করে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অতিরিক্ত দুর্ভোগের কারণ হয়েছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা বৃদ্ধি
ইরানের সঙ্গে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে রেখেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ঈদুল ফিতরের সময় এই হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলি ইসরাইলি কর্মকাণ্ডকে গণহত্যাকারী এবং দখলদার বাহিনীর কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনা ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ধর্মীয় অধিকারের উপর একটি নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রনিকল এবং আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলা ও নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।



