মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পাঁচ বাংলাদেশি নিহত, প্রবাসীদের ফেরত আনার উদ্যোগ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি শুক্রবার (২০ মার্চ ২০২৬) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে নিহত প্রবাসী মোশারফ হোসেনের মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সরকারের নিরাপত্তা ও ফেরত আনার প্রস্তুতি
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আমরা পাঁচজন বাংলাদেশি ভাইকে হারিয়েছি। সরকার যুদ্ধাবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছে। আমাদের মিশনগুলো প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ইরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশি নাগরিককে আজারবাইজান হয়ে দেশে ফেরানো হচ্ছে।
আর্থিক সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিহত মোশারফ হোসেনের মরদেহ গ্রহণকালে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা প্রবাসীদের পাশে আছি। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে, এবং বিএমইটির কার্ডধারীদের জন্য অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকার সহায়তা রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, মোশারফ হোসেনের দুই সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় নেবে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী যুদ্ধের কারণে চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের বিষয়ে বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। যারা পুনরায় বিদেশে ফিরে যেতে চাইবে, তাদের ভিসা মেয়াদ বাড়ানোসহ সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’
নিহত প্রবাসীর ঘটনা ও সরকারি প্রতিক্রিয়া
৮ মার্চ সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রবাসী বাংলাদেশি মোশারফ হোসেন নিহত হন। এই হামলায় মোশারফসহ মোট তিনজন প্রাণ হারান। শুক্রবার সকালে সৌদি এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে (এসভি ৮০৬) তাঁর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে মোশারফের পরিবারের উপস্থিতিতে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
নিহত মোশারফ হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামে। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী তাঁর মরদেহ টাঙ্গাইলের মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের কাছে হস্তান্তর করেন। সরকার নিহতদের পরিবারকে মরদেহ পরিবহনের খরচ প্রদান করছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ চায়, এই যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটুক এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হোক।’ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রবাসীদের ফেরত আনা ও সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।



