ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কৌশলগত বিভক্তি প্রকাশ্যে
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের সামরিক সমন্বয় থাকলেও, রাজনৈতিক পর্যায়ে লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে ভিন্নতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভক্তি আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
স্থল অভিযান নিয়ে ভিন্ন অবস্থান
স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থল অভিযান প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মনে করেন, শুধু আকাশ হামলায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে না; প্রয়োজনে স্থল অভিযান দরকার হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো অবস্থাতেই সেনা পাঠাতে চান না। তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে চান তিনি।
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা নিয়েও মতবিরোধ
এছাড়া এই দুই দেশের মধ্যে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে আগ্রহী হলেও, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এ ধরনের পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়ে আসছে। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে এ ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়েও বিভক্তি
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়েও দুই দেশের অবস্থান এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড জানিয়েছেন, ইসরায়েল যেখানে ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করতে চায়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী। ইরাক যুদ্ধ ও আফগানিস্তান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা মার্কিন জনমতকে এ ধরনের সংঘাতে নিরুৎসাহিত করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও ওয়াশিংটনের জন্য বড় বিবেচ্য বিষয়। অন্যদিকে, ইসরায়েল সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে থাকায় দেশটি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে দেখছেন।
এই বিভক্তি যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ইরানের পক্ষে সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



