ইরান বিরোধী অভিযানে মার্কিন শক্তি বৃদ্ধি: নতুন যুদ্ধজাহাজ বহর মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে
ইরান বিরোধী অভিযানে মার্কিন নতুন যুদ্ধজাহাজ বহর মধ্যপ্রাচ্যে

ইরান বিরোধী অভিযানে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির চূড়ান্ত প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে নিজেদের নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি এবং স্থল ও আকাশপথে আক্রমণ আরও জোরালো করতে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক হাজার মেরিন ও নৌসদস্যসহ নতুন যুদ্ধজাহাজ বহর পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া তথ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ‘বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ এবং ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটকে মোতায়েন করা হচ্ছে।

দ্রুততম সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বিশাল বহর

এই বিশাল বহরটি বর্তমানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল হয়ে দ্রুততম সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন গুঞ্জন উঠেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল শিল্পের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো দখলের চেষ্টা করতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, এই নতুন বহরে উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বক্সারসহ ইউএসএস পোর্টল্যান্ড ও ইউএসএস কমস্টক নামের দুটি শক্তিশালী পরিবহন ডক জাহাজ রয়েছে।

এই তিনটি জাহাজে প্রায় আড়াই হাজার মেরিনসহ মোট চার হাজার সেনাসদস্য অবস্থান করছেন। রণতরীগুলো অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিশেষ উভচর যান বহন করছে, যা সমুদ্র থেকেই সরাসরি স্থলে বড় ধরনের আক্রমণ পরিচালনায় সক্ষম। সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে এবং দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করতে নৌসদস্য ও মেরিনরা তাদের পূর্বনির্ধারিত ছুটি কমিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শক্তিশালী জোট গঠন করবে ইউএসএস ট্রিপোলির সঙ্গে

নৌবাহিনীর এই নতুন বহরটি মধ্যপ্রাচ্যের পথে থাকা অপর উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ট্রিপোলির সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করবে। এই দুই জাহাজ থেকে রোলিং এয়ারফ্রেম ও সি স্প্যারো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পাশাপাশি এফ-৩৫ লাইটনিং, এভি-৮ হ্যারিয়ার এবং ভাইপার ও নাইটহকের মতো বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির হেলিকপ্টার পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া স্বল্প সময়ের নোটিশে এই বহরের সঙ্গে ক্রুজার ইউএসএস নিউ অরলিন্স এবং জাপানভিত্তিক উভচর ডক জাহাজ ইউএসএস রাশমোর যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

সব মিলিয়ে মোট ছয়টি উভচর জাহাজ মোতায়েনের মাধ্যমে এই অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রায় আট হাজার সেনাসদস্য যুক্ত হবে, যাদের মধ্যে চার থেকে পাঁচ হাজারই দক্ষ মেরিন সেনা। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ফোর্ড অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়ায় সেটিকে মেরামতের জন্য অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই নতুন সেনাদল ও যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের ২০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ ও ইরানের হুঁশিয়ারি

পেন্টাগন ইতিমধ্যে এই যুদ্ধের খরচ জোগাতে ২০০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে, যাকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘সামান্য মূল্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, পুনরায় হামলা চালানো হলে তারা আর কোনো ‘সংযম’ দেখাবে না। পাল্টাপাল্টি এই শক্তি প্রদর্শনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অভিযানের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করবে। যুদ্ধজাহাজগুলোর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং বৃহৎ সেনাদলের উপস্থিতি অঞ্চলের নিরাপত্তা গতিশীলতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: নিউজম্যাক্স