ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের হাইফা তেল শোধনাগার আক্রান্ত, বিদ্যুৎ ব্যাহত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের হাইফা তেল শোধনাগার আক্রান্ত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের হাইফা তেল শোধনাগার আক্রান্ত

ইসরায়েলের উত্তরের শহর হাইফায় অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেল আবিব কর্তৃপক্ষ। তবে এই হামলায় শোধনাগারটির কতটুকু ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইসরায়েলি সরকার। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে তেহরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক সরকারি বিবৃতিতে ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, "তেল শোধনাগারে সংঘটিত হামলার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িকভাবে ব্যাঘাত ঘটেছিল। কিন্তু অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের প্রকৌশলীরা বেশিরভাগ গ্রাহকের বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিডে যে ক্ষতি হয়েছে, তা মোটেও গুরুতর নয়। ইরানের চালানো এই হামলায় ইসরায়েলের কোনো অবকাঠামোগত স্থাপনার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।"

মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার চক্র

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে যৌথভাবে হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাহিনী। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান এখন উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইসরায়েলের জ্বালানি ও অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনাগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। বিশেষ করে গত বুধবার ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলা চালানোর পর থেকে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর জের ধরে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের একাধিক তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের হুঁশিয়ারি ও প্রতিশোধের ঘোষণা

বৃহস্পতিবারই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একটি সতর্কবার্তা জারি করে বলেছেন, "যদি আমাদের জাতীয় অবকাঠামোর ওপর পুনরায় কোনো হামলা চালানো হয়, তাহলে আমরা 'জিরো' বা শূন্য সংযম প্রদর্শন করব।" ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক আলি হাশেম জানান, ইসরায়েলের দক্ষিণের শহর হাইফা ও আশহোদকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই সমস্ত হামলা চালানো হচ্ছে।" তবে তেহরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আশহোদে আঘাত হেনেছে কিনা, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান জ্বালানি যুদ্ধের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যেখানে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এই পাল্টাপাল্টি হামলার চক্রটি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে পুরো অঞ্চলটি একটি বৃহত্তর সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।