মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন
মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের (২৩ বিলিয়ন) অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার দেশটির মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ কংগ্রেসে পাঠানো এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই অনুমোদন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদার এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
নোটিশ অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর কাছে ৮০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রোন, আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান-এর গোলাবারুদ। এই সরঞ্জামগুলো দেশটির প্রতিরক্ষা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
কুয়েত ও জর্ডানের জন্য সামরিক সহায়তা
অন্যদিকে কুয়েত-এর জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আধুনিক রাডার সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া জর্ডান-এর জন্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি ডলারের বিমান ও গোলাবারুদ সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। এই সহায়তা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি
এ তিন দেশের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অংশের জন্য আলাদা করে কংগ্রেসকে অবহিত করার প্রয়োজন হয়নি, কারণ এটি পূর্ব অনুমোদিত প্যাকেজের সমন্বয় বা বাণিজ্যিক বিক্রয়ের আওতায় পড়ে। এই বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র শিল্পের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষণ ও প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদার এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অস্ত্র বিক্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। তবে এই বিক্রি আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে বলে কিছু উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই



