ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা পর গুপ্তচর গ্রেপ্তার: আইআরজিসির অভিযোগ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা পর গুপ্তচর গ্রেপ্তার

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা পর গুপ্তচর গ্রেপ্তার: আইআরজিসির অভিযোগ

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর দেশ দুটির হয়ে কাজ করার অভিযোগে ১৭৮ জন গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিভিন্ন কেন্দ্র এবং সামরিক তল্লাশিচৌকির ছবি ও অবস্থান তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠাচ্ছিলেন।

গুপ্তচরদের কার্যক্রম ও উদ্ধারকৃত সামগ্রী

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এসব তথ্য হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, লোকেশন শনাক্তকারী যন্ত্র, বিশেষ যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। এই উদ্ধারকৃত সামগ্রী গুপ্তচরদের কার্যক্রমের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

হামলার পটভূমি ও প্রভাব

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ প্রায় অর্ধশত বেসামরিক ও সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরবর্তী কয়েক দিনের হামলায় শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অবস্থান দেশের ভেতর থেকেই ফাঁস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ইরানের গোয়েন্দা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া

তবে এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি। আইআরজিসির এই দাবি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই গ্রেপ্তার ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। অন্যদিকে, কিছু পর্যবেক্ষক এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

এই ঘটনা ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ক্রমাগত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই গ্রেপ্তার সেই উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।