ইরানের আহ্বান: বিবেকবান মার্কিন নাগরিক ও কর্মকর্তাদের যুদ্ধ প্রত্যাখ্যানের দাবি
ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক আগ্রাসনকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য প্রতিটি বিবেকবান মার্কিন নাগরিক ও সরকারি কর্মকর্তার প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে এই দাবি উত্থাপন করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পদত্যাগের ঘটনা ও নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্ন
বাঘাই তার পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কাউন্টারটেররিজমের (এনসিসি) ডিরেক্টর জোসেফ কেন্টের সাম্প্রতিক পদত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরেন। কেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উস্কানিতে চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদে তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, দাবি করেছেন যে একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে তিনি এই সংঘাতকে সমর্থন করতে পারেন না।
এই প্রসঙ্গে বাঘাই মন্তব্য করেন, "এই যুদ্ধ আমেরিকার সাধারণ মানুষের যুদ্ধ নয়, এবং একজন বিবেকবান মার্কিন নাগরিক বা কর্মকর্তার জন্য এই অবৈধ যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করাটাই হলো সর্বনিম্ন নৈতিক দায়িত্ব।" তার বক্তব্যে ইরান এই সংঘাতকে একটি অবৈধ ও উস্কানিমূলক আগ্রাসন হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা গত মাসের শেষের দিকে শুরু হয়েছে।
যুদ্ধের পেছনে ইসরাইলি চাপের অভিযোগ
জোসেফ কেন্ট তার পদত্যাগপত্রে আরও দাবি করেন যে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেনি। বরং, তার মতে, ইসরাইল এবং সেদেশের শক্তিশালী ইসরাইলি লবিংয়ের চাপের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। কেন্টের এই পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে এবং তার কট্টর সমর্থকদের মধ্যে যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে গভীর বিভাজন ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই হামলার পেছনে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন কারণ উপস্থাপন করেছেন এবং ইসরাইলি চাপের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তবে, চলতি মাসের শুরুতে হাউজ স্পিকার মাইক জনসন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে হোয়াইট হাউস বিশ্বাস করে ইসরাইল একাই এই পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর ছিল, যা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের জন্য একটি কঠিন সিদ্ধান্তের পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।
সংঘাতের সূচনা ও ইরানের পাল্টা ব্যবস্থা
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী তেহরানের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে যৌথ সামরিক হামলা চালানোর মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা করে। সেই সময় থেকে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরাইলি অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের আহ্বান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে যখন মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী কণ্ঠস্বর শক্তিশালী হচ্ছে। বাঘাইয়ের বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে যে এই যুদ্ধ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি নৈতিক দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।



