ইরানের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানালো ১২ আরব ও ইসলামি দেশের যৌথ বিবৃতি
ইরানের হামলার নিন্দা জানালো ১২ আরব ও ইসলামি দেশ

ইরানের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানালো ১২ আরব ও ইসলামি দেশের যৌথ বিবৃতি

বিশ্বের প্রভাবশালী আরব ও ইসলামি দেশগুলো ইরানের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মোট ১২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের মাধ্যমে এই বিবৃতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি

বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রিয়াদ বৈঠকে অংশ নেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন দেশের বেসামরিক এলাকা, তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, পানি শোধনাগার এবং আবাসিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এমনকি কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে গত ১৬ মার্চ দুবাই বিমানবন্দরের পাশে চালানো হামলার ভয়াবহতা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আত্মরক্ষার অধিকার ও কঠোর তাগিদ

মন্ত্রীরা সম্মিলিতভাবে জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আক্রান্ত রাষ্ট্রগুলোর আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তারা ইরানকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বন্ধ করার কঠোর তাগিদ দিয়েছেন। যৌথ বিবৃতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবে সব ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং হামলার অবসান ঘটানোর কথা বলা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জলপথের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যত সম্পর্ক

এ ছাড়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মান্দাবে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখার এবং কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে এই দেশগুলোর সম্পর্ক কেমন হবে, তা তেহরানের এই শর্তগুলো মানার ওপরই নির্ভর করবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। আরব ও ইসলামি দেশগুলোর এই জোট একই সঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি আগ্রাসনেরও তীব্র নিন্দা জানান।

আঞ্চলিক সমন্বয় ও বিশ্লেষকদের মতামত

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঐক্যমত্যে পৌঁছেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা ভবিষ্যতেও নিজেদের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখবেন এবং প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তাল সময়ে ইসলামি বিশ্বের দেশগুলোর এমন ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি