ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহত নেতাদের জানাজা, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে লেবাননে
ইরানে নিহত নেতাদের জানাজা, লেবাননে উত্তেজনা

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহত নেতাদের জানাজা, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে লেবাননে

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিহত হওয়ার পর দেশটিতে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে তেহরানে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি ও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের অধীন বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই জানাজায় হাজারো শোকার্ত ইরানি অংশ নিয়ে নিহত নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে অনেকের হাতে ইরানের নিহত শীর্ষ নেতাদের ছবি দেখা গেছে, যা দেশটির গভীর শোক ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেবাননে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি

ইরানে হামলা শুরুর পর লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে, অন্যদিকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরায়েল লক্ষ্য করে রকেট ছুড়ছেন। এই সংঘাতের মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের উপকূলীয় শহর টায়ারে একঝাঁক পায়রা উড়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উত্তেজনার এই পরিস্থিতি পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ফিলিস্তিন ও অন্যান্য অঞ্চলে হামলার প্রভাব

ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের কাছে বেইত আওয়া এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। এছাড়াও, জেরুজালেম শহরের ওপর দিয়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা যুদ্ধের বিস্তারকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইরানের মিনাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বেসামরিক নাগরিকদের স্মরণে মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বক্তব্য দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলার মধ্যে মার্কিন সাবমেরিনের ডুবিয়ে দেওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’র নিহত এক ব্যক্তির কফিন তেহরানে গাড়িতে তোলা হয়েছে। এছাড়া, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের রাজধানী ইরবিলের বাজারে ক্রেতাদের অপেক্ষায় দোকানিদের দেখা গেছে, যা যুদ্ধের মধ্যেও দৈনন্দিন জীবনের চিত্র তুলে ধরছে। ওমানের মাসকাটে সুলতান কাবুস বন্দরে নোঙর করা একটি জাহাজের কাছাকাছি স্থান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও সাধারণ মানুষের চলাফেরার স্বাভাবিকতা নির্দেশ করে।

এই ঘটনাগুলো ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের জটিলতা এবং এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।