কাবুলের মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলার শিকারদের জানাজা অনুষ্ঠিত
বুধবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলায় নিহত কিছু মানুষের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই হামলাটি সোমবার সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে শতশত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আফগান তালেবান সরকারের কর্মকর্তারা জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন, যা ঘটনার গুরুত্ব ও মানবিক সংকটকে তুলে ধরেছে।
হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা
আফগান তালেবান সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে সংঘটিত এই বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছেন। পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিন সপ্তাহের ধরা চলা যুদ্ধে এই একটি হামলাতেই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া ও সামরিক বিরতি
পাকিস্তান দাবি করেছে যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। বরং তারা নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে জানিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন যে, বুধবার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
তারার আরও উল্লেখ করেছেন যে, পবিত্র রমজানের সমাপ্তি উপলক্ষে ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্কের অনুরোধে এই বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি পাকিস্তানের ভেতরে সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ, ড্রোন আক্রমণ বা কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, তবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান অবিলম্বে পুনরায় তীব্রতার সাথে শুরু হবে।
আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার পটভূমি
এদিকে বুধবার আফগানিস্তানের তালেবান সরকারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই সামরিক বিরতি সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তান গত বছর অভিযোগ তুলেছিল যে, কাবুলের সরকার পাকিস্তানজুড়ে হামলা চালানো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় ও সমর্থন দিচ্ছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত কমে এসেছিল, কিন্তু গত মাসে আবারও উত্তেজনা বেড়ে যায়।
গত মাসে পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করে, যা পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে পরিবর্তন হিসেবে দেখা যায়। এর আগে ইসলামাবাদ শুধু সীমান্ত অঞ্চলে থাকা পাকিস্তান তালেবানের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এই পরিবর্তন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
কাবুলের মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলাটি একটি গুরুতর মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। এই কেন্দ্রটি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ সুরক্ষা পাওয়ার কথা। হামলায় নিহতদের মধ্যে অনেকেই নিরীহ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে নিন্দা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সামরিক বিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও, ভবিষ্যতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরছেন।



