মার্কিন বৃহত্তম রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড অচল, মেরামতে ফিরছে লোহিত সাগর থেকে
মার্কিন বৃহত্তম রণতরী অচল, মেরামতে ফিরছে

মার্কিন বৃহত্তম রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড অচল হয়ে মেরামতে ফিরছে

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ও বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড অচল হয়ে পড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো এই রণতরীটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সীমান্তে পৌঁছানোর আগেই ব্যর্থ হয়েছে। লোহিত সাগরে অবস্থানকালে এটি গুরুতর প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হয়, যার ফলে মেরামতের জন্য গ্রিসের ক্রেট দ্বীপের সৌদা বে বন্দরে ফিরে যাচ্ছে।

আগ্নিকাণ্ড ও টয়লেট সমস্যা: রণতরীর দুর্দশার কারণ

মার্কিন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নিশ্চিত করেছেন যে, জাহাজে আগুন লাগার পর এবং টয়লেট সিস্টেম অচল হয়ে যাওয়ায় এটি সাময়িকভাবে বন্দরে নোঙর করবে। এই তথ্য তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধের ১৮তম দিনে প্রকাশ করা হয়েছে, যা মার্কিন সামরিক অভিযানের সময়সূচিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রে থাকা অবস্থায় রণতরীটির টয়লেট সিস্টেমে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়, যার ফলে নাবিকদের বাথরুম ব্যবহারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এছাড়া, প্রধান লন্ড্রি এলাকায় আগুন লাগলে ধোঁয়াজনিত অসুস্থতায় প্রায় ২০০ নাবিককে চিকিৎসা নিতে হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে এবং প্রায় ১০০টি স্লিপিং বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে মার্কিন সেনাদের হোটেল রুমের মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়।

দীর্ঘ মোতায়েন ও মনোবল সংকট

এই রণতরীটি ৯ মাস ধরে মোতায়েন রয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আসার আগে এটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযানেও অংশ নিয়েছিল। এত দীর্ঘ সময় ধরে অপারেশনে থাকার কারণে জাহাজে থাকা নাবিকদের মনোবল এবং রণতরীটির যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যকারিতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রণতরীটি সাময়িকভাবে গ্রিসের বন্দরে যাবে মেরামত ও পুনর্বাসনের জন্য। এই ঘটনা ইরান সংকটের সময় মার্কিন সামরিক শক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক উত্তেজনা মোকাবিলায় জোরালো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।

সূত্র হিসেবে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। এই সংকট মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।