মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইউক্রেনের মিসাইল সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তার দেশে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বুধবার (১৮ মার্চ) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
পুতিনের কৌশল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বণ্টন
জেলেনস্কি বিবিসির সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চান। এই যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ ও সহায়তা অন্য দিকে মোড় নেবে, যা ইউক্রেনকে দুর্বল করে তুলবে। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, "পুতিনের জন্য, ইরানে দীর্ঘ যুদ্ধ একটি সুবিধা। এটি শুধু শক্তির দাম বৃদ্ধিই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ ও এয়ার ডিফেন্স নির্মাতাদের সরবরাহও কমিয়ে দেবে। ফলে আমাদের, অর্থাৎ ইউক্রেনের, সম্পদও হ্রাস পাচ্ছে।"
মিসাইল উৎপাদন ও ব্যবহারের অসমতা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি মিসাইল উৎপাদন করে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রথম দিনেই ৮০৩টি মিসাইল ব্যবহার হয়েছে, যা উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। এই অসমতার কারণে জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন যে মার্কিন উৎপাদিত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ঘাটতি নিশ্চিতভাবেই দেখা দেবে, যা কিয়েভের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা তৈরি করবে।
জেলেনস্কির পূর্ববর্তী সতর্কতা ও অনুরোধ
মার্চ মাসের শুরুতে জেলেনস্কি ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছিলেন যে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। তিনি তখন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগীদের কাছে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন পাঠানোর বিনিময়ে আরও প্যাট্রিয়ট মিসাইলের অনুরোধ করেছিলেন। জেলেনস্কি প্রশ্ন তুলেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত মজুদ কখন শেষ হবে?" এই প্রশ্নটি ইউক্রেনের নিরাপত্তা চাহিদার প্রতি মার্কিন মনোযোগের গুরুত্ব তুলে ধরছে।
এই পরিস্থিতিতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তা বণ্টনের উপরও প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। ইউক্রেনের মিসাইল ঘাটতির এই আশঙ্কা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি নতুন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
