ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি ও বাসিজ কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম রেজা সোলাইমানির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই শোকানুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা বিপুল সংখ্যায় অংশ নিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
ইসরাইলি হামলায় নিহত নেতাদের শেষ বিদায়
গত ১৭ মার্চ তেহরানে ইসরাইলের বিমান হামলায় সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি তার ছেলেসহ শহীদ হন। একইভাবে, বাসিজ কমান্ডার গোলাম রেজা সোলাইমানিও ইসরাইলের যুদ্ধবিমানের হামলায় প্রাণ হারান। তাদের মৃত্যু ইরানে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে, যা জানাজায় বিশাল জনসমাগমের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
নৌসেনাদের জানাজাও সম্পন্ন
এই অনুষ্ঠানে গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর টর্পেডো হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত 'দেনা' ডেস্ট্রয়ারের কয়েক ডজন ইরানি নৌসেনার জানাজাও সম্পন্ন হয়। এই হামলায় নিহত সেনাদের পরিবার ও সহকর্মীরা শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাদের স্মরণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পটভূমি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়জন ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পর মার্কিন ও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এই হামলায় ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবস্থানগুলোতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে ব্যাপক হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের পাল্টা অভিযান
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই আক্রমণের জবাবে অধিকৃত অঞ্চল এবং আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পাল্টা অভিযান পরিচালনা করছে। এই উত্তেজনা ইরান-মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শোক ও প্রতিবাদের মিশ্রণ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
এই ঘটনাটি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। লারিজানি ও সোলাইমানির মতো শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের মৃত্যু দেশটির নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে, পাশাপাশি ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য এই জানাজা একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
