ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানির হত্যার প্রতিশোধে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
লারিজানি হত্যার প্রতিশোধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানির হত্যার প্রতিশোধে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান ইসরাইলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) লারিজানির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ইতিমধ্যেই প্রতিশোধমূলক এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিবের কাছে একটি ভবনে আঘাত হানলে দুজন নিহত হয়েছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চল ও লেবাননে উত্তেজনা

এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোড়া রকেট ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। লেবাননেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর জড়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইসরাইল রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। বৈরুতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে, যা আঞ্চলিক সংঘাতের তীব্রতা নির্দেশ করছে।

লারিজানির জানাজা ও নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া

ইরানের ফার্স ও তাসনিম বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আলী লারিজানি এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানির জানাজা তেহরানের সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। তাদের মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার নিশ্চিত করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সংঘাতে লারিজানি হচ্ছেন সবচেয়ে প্রভাবশালী নিহত ব্যক্তিত্বদের একজন।

ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিবকে হত্যার জবাব হবে দৃঢ় ও দুঃখজনক।' অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব 'এখনো কেবল শুরু' এবং এর প্রভাব সবার ওপর পড়বে। হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সামরিক পদক্ষেপ

পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইরানের উপকূলবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে ভারী বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড। ইসরাইল পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, লারিজানির মৃত্যু আরও বড় আকারের প্রতিশোধমূলক হামলার সূচনা করবে এবং এটি 'জাতীয় জাগরণের উৎস' হয়ে উঠবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইসরাইলের এই হত্যাকাণ্ডকে 'যুদ্ধের স্বাভাবিক আইনের বাইরে অবৈধ কার্যক্রম' বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে উঠেছে, যেখানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর জড়িত থাকা উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।