মিত্র দেশগুলোর সহায়তা ছাড়াই ইরান সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের একক অবস্থান
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে মিত্র দেশগুলো ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। উল্টো গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরানে হামলা বন্ধ করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, আমেরিকার কারো লাগবে না এবং অন্য কারো সহায়তারও প্রয়োজন নেই।
মিত্র দেশগুলোর সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের ক্ষোভ
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে ঐ গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কার্যত অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পর ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে রণতরি পাঠানোর জন্য আহ্বান জানান।
কিন্তু যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ইতালিসহ বহু দেশ এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মার্কিন অভিযান বিষয়ে ইউরোপকে আগাম কিছু জানানো হয়নি। তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটোর অনুমোদন ছাড়াই এমন সামরিক মোতায়েনে যেতে পারে না বার্লিন সরকার।
ট্রাম্পের একক অবস্থান ও পরীক্ষামূলক উদ্দেশ্য
মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে ট্রাম্প আরো দৃঢ় ভাষায় বলেন, ‘আমাদের কারো দরকার নেই। আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ, আমাদের সেনাও সবচেয়ে শক্তিশালী।’ তিনি আরো ব্যাখ্যা করে জানান, ‘অনেকটা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যেই মিত্রদের পাশে চাইছিলেন, প্রয়োজনে কে সাহায্য করবে তা যাচাই করতে।’
এই অবস্থানের মাধ্যমে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং তেলের দাম বৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। মিত্র দেশগুলোর অনীহা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ ইরান সংকটকে আরো জটিল করে তুলছে।
