কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি, চীনের মধ্যস্থতা
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের অভিযোগ ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
আফগানিস্তান সরকার দাবি করেছে যে, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের রাজধানীর বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা জঙ্গি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে নি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তানি সেনারা কাবুলে একাধিক হামলা চালিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংঘাতের পটভূমি ও চীনের ভূমিকা
এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে পাকিস্তানের দাবির প্রেক্ষিতে, যেখানে তারা অভিযোগ করে যে তালেবান সরকার সীমান্ত এলাকার জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে চীন মঙ্গলবার পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয় দেশকে ‘শান্ত ও সংযম’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এবং আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর উপর জোর দিয়েছে।
পাকিস্তান এই অঞ্চলে চীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে বেইজিং নিজেকে আফগানিস্তানের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী’ বলে দাবি করে। চীনের একটি বিশেষ দূত ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে এক সপ্তাহ সময় ব্যয় করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীন উত্তেজনা কমানো এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে নিজস্ব চ্যানেল ব্যবহার অব্যাহত রাখবে।’
সমাধানের পথ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
লিন জিয়ান আরও উল্লেখ করেন যে, সংলাপ ও আলোচনাই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যার একমাত্র কার্যকর সমাধান। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চীনের এই মধ্যস্থতা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় মানবিক সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
