পোল্যান্ডের ঘোষণা: ইরান যুদ্ধে সৈন্য পাঠাবে না, ট্রাম্পের আহ্বানে নাকচ
পোল্যান্ড ইরান যুদ্ধে সৈন্য পাঠাবে না, ট্রাম্পের আহ্বান নাকচ

ইরান সংকটে পোল্যান্ডের স্পষ্ট অবস্থান: যুদ্ধে অংশ নেবে না

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে নিজেদের বিরত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে মিত্র দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি জোট গঠনের আহ্বানের পরই এই ঘোষণা আসে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তার দেশ কোনো সৈন্য পাঠাবে না।

ট্রাম্পের আহ্বানে পোল্যান্ডের জবাব

বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্প ইউরোপসহ বিভিন্ন মিত্র দেশের সহায়তা কামনা করেছিলেন। এমনকি ঐতিহাসিক বৈরিতা সত্ত্বেও চীনের কাছেও সাহায্য চেয়েছিলেন মার্কিন নেতা। কিন্তু পোল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের সেই পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। সরকারি এক বৈঠকের আগে তুস্ক বলেন, ‘পোল্যান্ডের সরকার ইরানে কোনো অভিযানের পরিকল্পনা করছে না এবং এটি আমাদের মিত্রদের মনেও কোনো সন্দেহের উদ্রেক করে না।’

ইরানের পাল্টা হামলা ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ

গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া অসম যুদ্ধে ইরান দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে বেসামাল করে দিয়েছে। একইসঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে অনবরত হামলা চালাচ্ছে তেহরান। সবচেয়ে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে, যার মাধ্যমে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

পোল্যান্ডের সামরিক প্রস্তুতির অগ্রাধিকার

প্রধানমন্ত্রী তুস্ক আরও স্পষ্ট করেন যে, এই সিদ্ধান্তের আওতায় পোল্যান্ডের স্থল, বিমান এবং নৌবাহিনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন সীমান্ত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে এই বাহিনীগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা চাহিদাই পোল্যান্ডের জন্য অগ্রাধিকার পেয়েছে, ইরান সংকটে সরাসরি জড়ানো নয়।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের বাজারে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে পশ্চিমা জোটের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এখন প্রশ্নের মুখে। পোল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও বিভক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, যেখানে পোল্যান্ডের মতো মিত্র দেশের অস্বীকৃতি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে আরও দুরূহ করে তুলতে পারে।