ইসরাইলি অভিযানে নিহত ইরানের বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলাম রেজা সোলাইমানি
ইসরাইলি অভিযানে নিহত ইরানের বাসিজ কমান্ডার সোলাইমানি

ইসরাইলি অভিযানে নিহত ইরানের বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলাম রেজা সোলাইমানি

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী একটি বড় ধরনের দাবি উত্থাপন করেছে। তারা জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলাম রেজা সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডকে ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানের সামরিক ‘কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল’ বা নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ আঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

ইসরাইলের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

তেল আবিব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক নেতৃত্বের সক্ষমতা ধ্বংস করতে তারা এই ধরনের শক্তিশালী অভিযান অব্যাহত রাখবে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের মতে, এই অপারেশন শুধুমাত্র একটি লক্ষ্যবস্তুকে নির্মূল করাই নয়, বরং ইরানের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলা ইরানের জন্য একটি কৌশলগত পরাজয়ের সমতুল্য।

গোলাম রেজা সোলাইমানির জীবন ও কর্ম

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণকারী সোলাইমানি তরুণ বয়সেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরে যোগ দেন। ধীরে ধীরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি আইআরজিসির কয়েকটি ডিভিশনের নেতৃত্ব দেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি বাসিজ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আইআরজিসির অধীনস্থ এই স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনীতে আনুমানিক সাড়ে চার লাখ সদস্য রয়েছে। সোলাইমানি এই বাহিনীর নেতা হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হতেন। তার নেতৃত্বে বাসিজ বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করত।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক অবস্থান

ইরান সরকারের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত গোলাম রেজা সোলাইমানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ ও সংস্থার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো তার সম্পদ জব্দ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সীমিত করার উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়েছিল। সোলাইমানিকে ইরানের শাসন ব্যবস্থার একটি শক্ত স্তম্ভ হিসেবে দেখা হতো, যার অনুপস্থিতি এখন দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে।

এই ঘটনাটি ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলার একটি ধারাবাহিকতায় পরিণত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পূর্ববর্তী কয়েক মাসে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার দায় স্বীকার করেছে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রেক্ষাপটে সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।