ইরানের হামলার মুখে আমিরাতের আকাশসীমা বন্ধ, মার্কিন সেনাদের হতাহতের চিত্র
ইরানের নতুন মিসাইল ও ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত অস্থায়ীভাবে নিজেদের পুরো আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে ইরান আমিরাতকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় বলে জানানো হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয়।
নিরাপত্তা বিবেচনায় আমিরাতের সিদ্ধান্ত
আমিরাতের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিমানের ফ্লাইট ও ক্রুদের নিরাপত্তা এবং দেশটির ভূখণ্ডের নিরাপত্তা বিবেচনা করেই এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিমান চলাচল সম্পূর্ণরূপে স্থগিত রাখা হয়েছে যতক্ষণ না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মার্কিন সেনাদের হতাহতের বিস্তারিত তথ্য
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ২০০ জন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।
হকিন্স আরও উল্লেখ করেছেন যে, আহতদের মধ্যে রয়েছে:
- দগ্ধ হওয়ার ঘটনা
- আঘাতজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতি
- বিস্ফোরণের টুকরো দ্বারা আঘাত
তিনি জানান, ১৮০ জন সেনাসদস্য ইতোমধ্যেই তাদের দায়িত্বে ফিরে এসেছেন, যা কিছুটা স্বস্তির খবর বটে।
ইরানের ড্রোন হামলার ভূমিকা
সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ইরানের 'একমুখী' ড্রোন হামলা এই সংঘাতের বেশিরভাগ হতাহতের জন্য দায়ী। মার্কিন বাহিনীর যৌথ চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন গত সপ্তাহেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে এই ধরনের ড্রোন হামলা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনছে।
যুদ্ধের পটভূমি ও আঞ্চলিক প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একটি। এই আঞ্চলিক উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমিরাতের আকাশসীমা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে মধ্য প্রাচ্য ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোর উপর। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
