হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান ট্রাম্পের, মিত্রদের ভূমিকায় অসন্তুষ্টি
হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াসহ মিত্রদেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প মিত্রদের ভূমিকায় তীব্র অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। গত রোববার তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ মিত্রদেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহায়তা না দিলে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

মিত্রদের সহায়তা চেয়ে ট্রাম্পের বার্তা

ট্রাম্প গত শনিবার বলেন, তাঁর প্রত্যাশা যে চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে। কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে তিনি রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, ‘যারা এই প্রণালি থেকে উপকৃত হচ্ছে, তাদের উচিত সেখানে যাতে খারাপ কিছু না ঘটে, সে জন্য সহায়তা করা।’ তিনি ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে যোগ করেন, ‘যদি সহায়তার কোনো সাড়া না পাওয়া যায়, তাহলে এটি ন্যাটোর জন্য খুব খারাপ হবে।’

ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্বীকৃতি

ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি কোনো ন্যাটো মিশন হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসও উল্লেখ করেছেন, ইইউ হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত নৌ মিশনের পরিধি বাড়ানোর আগ্রহী নয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, জার্মানি এ যুদ্ধে অংশ নেবে না, কারণ এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান ও বিক্ষোভ

দক্ষিণ কোরিয়া ট্রাম্পের আহ্বান বিবেচনা করে দেখছে বলে জানিয়েছে, যদিও দেশটির রাজধানী সিউলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষক রজার শানাহান মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা হরমুজ প্রণালি ‘সুরক্ষিত’ করার কাজে জড়িত হওয়ার ‘সম্ভাবনা কম’।

যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম ৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। গতকাল পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজারের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলে হামলায় ৩ হাজার ৩৬৯ জন আহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

আঞ্চলিক প্রভাব

যুদ্ধের প্রভাব আশপাশের অন্তত ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ৮৮৬ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্রদের জন্য তা বন্ধ।

ট্রাম্পের মিত্রদের প্রতি চাপ সত্ত্বেও, বেশির ভাগ দেশ এ যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অনিচ্ছুক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।