হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কা, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে?
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কা, যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণে ইরান

হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কা, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে?

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এলপিজি গ্যাসবাহী ট্যাংকারসহ শত শত জাহাজ নোঙর করে আছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মহসেন রেজায়ি দাবি করেছেন, যুদ্ধের সমাপ্তি কীভাবে হবে, তা তারা ঠিক করবে।

যুদ্ধের গতিপথে অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনগুলোতে নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে থাকলেও এখন পরিস্থিতি অনেকটা অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে। ইসরায়েলের আকস্মিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানে হাজারো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যাপক আক্রমণ চালিয়ে প্রতিশোধ নেয়।

ইরানি হামলায় ইসরায়েলে ১২ জন নিহত হয়েছেন, যা গত বছরের সংঘাতের তুলনায় কম। উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের লক্ষ্যবস্তু হলেও তাদের অবকাঠামো রক্ষা করতে পেরেছে, যদিও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্লেষকদের ভিন্ন মত

কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক পিটার নিউম্যান বলেন, 'হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। আমার মনে হয়, এখন নিয়ন্ত্রণ ইরানিদের হাতে।' অন্যদিকে, জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড্যানি ওরবাখ মনে করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রই এখনো যুদ্ধের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বান জানালেও এখনো কোনো দেশ সাড়া দেয়নি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, শত শত ট্যাংকার পাহারা দেওয়া বিশাল সামরিক সম্পদের ব্যাপার এবং জাহাজ চলাচলের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

নিউম্যান যোগ করেন, 'ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারলেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করা যায়নি। সেখানকার শাসনব্যবস্থা দুর্বল মনে হলেও স্থিতিশীল।' লেবানন ফ্রন্টে হিজবুল্লাহ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি শক্তি প্রদর্শন করছে, যদিও বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের সামনে তাদের মূল লক্ষ্য এখন শুধু টিকে থাকা।

সব মিলিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তেহরানকেই নিতে হবে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন আশা করেছিল, তার কোনো লক্ষণ বর্তমানে নেই, এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছেন।