ইসরাইলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাতের ১৭তম দিনে সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) ইরান ইসরাইলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইসরাইলের উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ অঞ্চল এবং জেরুজালেমে অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যার ফলে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে এবং অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
ইরানি বাহিনী মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত পাঁচটি ধাপে ইসরাইলে এই হামলা চালায়। যদিও ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও কিছু ওয়ারহেড আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ডাংশ ও ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন স্থানে পড়েছে, যা অতিরিক্ত ক্ষতির কারণ হয়েছে।
হামলার শিকার হওয়া স্থানগুলোর মধ্যে রিশন লেজিয়ন শহরে একটি বাড়িতে আঘাত হানায় এক নারী আহত হয়েছেন। এছাড়া, জেরুজালেমের নেসেট এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকারের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ডাংশ পড়েছে। মধ্য ইসরাইলে একটি ক্লাস্টার বোমার আঘাতে আরও একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরাইলের জবাবি হামলা
ইরানি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইর ব্যক্তিগত জেট বিমান এবং একটি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে বলে আইডিএফ জানিয়েছে।
ইরানি হামলার কারণে ইসরাইলের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে এবং জেরুজালেমে দুই দফা সাইরেন বেজে ওঠে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রিশন লেজিয়নের একটি বাড়িসহ মধ্য ইসরাইলের বেশ কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংঘাতের পটভূমি
এই হামলাগুলো ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান অসম যুদ্ধের অংশ, যেখানে ইরান ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বীরদর্পে জবাব দিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংঘাতটি ইসরাইলের অবৈধ ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপটে ঘটছে, এবং উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ এটি অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সূত্র হিসেবে টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই সংঘাতের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেছে।



