ইরান যুদ্ধে অংশগ্রহণে ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অবস্থান
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র চাপ উপেক্ষা করার সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনও সুচিন্তিত পরিকল্পনা ছাড়া ব্রিটিশ সেনাদের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া সম্ভব নয় এবং এই ক্ষেত্রে তিনি নিজের নীতিতে অটল রয়েছেন।
ট্রাম্পের ক্ষোভ ও স্টারমারের জবাব
ট্রাম্প সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধবিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোর ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন স্টারমার। এমনকি সেখানে ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরিপাঠাতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ব্রিটিশ নেতার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, "আমি যখন তাদের আসতে বললাম, তারা আসতে চাইলো না।"
ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমালোচনার জবাবে কিয়ার স্টারমার বলেন, ব্রিটিশ সেনাদের কেবল তখনই কোনও অভিযানে পাঠানো উচিত যখন সেটির আইনি ভিত্তি থাকে এবং তার পেছনে একটি যথাযথ ও সুচিন্তিত পরিকল্পনা থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অপরিকল্পিতভাবে সেনা পাঠানো হলে তা বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং এটি তার নেতৃত্বের মূলনীতির পরিপন্থী।
ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ সমালোচনা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
ব্রিটেনের ভেতরেও স্টার্মারের এই অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে লন্ডনের মিত্রতায় ফাটল ধরতে পারে এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী এই সমালোচকদের একহাত নিয়েছেন।
স্টারমার বলেন, "বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা পরিস্থিতির ভয়াবহতা না বুঝেই তড়িঘড়ি করে ব্রিটেনকে এই যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চাইছেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "বিরোধীরা আমাদের বাহিনীকে কোথায় পাঠানো হচ্ছে তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র না জেনেই এবং ফিরে আসার কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ত। এটা নেতৃত্ব নয়; এটা স্রেফ অন্ধ অনুসরণ।"
এই বক্তব্যে স্টারমার তার সতর্ক ও পরিকল্পনামাফিক নীতির প্রতি অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন, যা যুদ্ধে অংশগ্রহণের আগে যথাযথ প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে। তার মতে, ব্রিটেনের নিরাপত্তা ও সেনাদের কল্যাণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত, এবং তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
