ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা আসতে পারে আগামী সপ্তাহে, বললেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক
ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা আসতে পারে আগামী সপ্তাহে

ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা আসতে পারে আগামী সপ্তাহে, বললেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারেন আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে। এই মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক এলিয়ট আব্রামস, যিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভেনেজুয়েলা ও ইরানবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপুরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

দুটি সম্ভাব্য পথের কথা উল্লেখ

আব্রামস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সামনে দুটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে। তার মতে, প্রথম সম্ভাবনা হলো ইরানের ভেতরে কোনো ধরনের বিদ্রোহ দেখা দেওয়া, যা বর্তমান সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে পারে। তবে তিনি দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিকেই বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন, যা হলো খুব শিগগিরই ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবেন।

আব্রামস বলেন, “সম্ভবত এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প ঘোষণা দিতে পারেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরিকল্পিত সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং এখন যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি মনে করি তিনি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ করার ঘোষণা দেবেন।” এই বক্তব্যে তিনি দ্বিতীয় সম্ভাবনাটির প্রতি জোর দেন।

ইরানের সরকারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

সাবেক এই কূটনীতিক ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরানের অনেক সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারকে অপছন্দ করলেও সরকারটি ঠিক কখন পতন হবে—এক সপ্তাহ পরে নাকি পাঁচ বছর পরে—তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। এই অনিশ্চয়তা যুদ্ধের গতিপথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

এলিয়ট আব্রামস মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর সাবেক সিনিয়র ফেলো হিসেবে তার অভিজ্ঞতা থেকে এই মূল্যায়ন প্রদান করেছেন। তার মতে, ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে, যদিও ইরানের সরকারের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।

এই সাক্ষাৎকারটি আল জাজিরার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ধরনের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।